
তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অল্পতেই আটকে গিয়েছিল নেদারল্যান্ড। বাংলাদেশের লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার বিদায় নিলেও ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক লিটন দাস। তার দেখাদেখি ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ২২ মাস পর দলে ফেরা সাইফ হাসান। এই দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী নেদারল্যান্ডসের দেয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য ১৪.৩ ওভারেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন দাস ২৯ বলে ৫৪ ও দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাইফ ১৯ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল আক্রমণাত্মকই। তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমন মিলে ২.৩ ওভারেই স্কোরবোর্ডে তোলেন ২৬ রান। তবে ইমনের ইনিংস বড় হয়নি। তৃতীয় ওভারেই তিনি বিদায় নেন বোল্ড হয়ে। এরপর বাংলাদেশের হার ধরেন লিটন দাস ও তামিম।
তামিম ফিরেন ২৪ বলে ২৯ রান করে, দলীয় ৯২ রানে। তার আগে লিটনের সঙ্গে তিনি গড়েছিলেন ৬৬ রানের জুটি। তামিম ফিরলেও বাংলাদেশ বড় জয় পেয়েছে অধিনায়ক লিটন ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে। আজ শুরু থেকেই মারকুটে মেজাজে ছিলেন লিটন।
টাইগার অধিনায়ক ২৬ বলে তুলে নেন নিজের অর্ধশতক। তামিম ফেরার পর তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন বল হাতে এক ওভারেই দুই উইকেট নেওয়া সাইফ হাসান। এ দুজন মিলে ২৬ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত লিটন ৫৪ রানে এবং সাইফ ৩৬ রানে রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৯ বলে ৩৬ রান করতে ৩টি ছয় ও ১টি চার মারেন সাইফ।
এর আগে বোলিংয়ে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই আজ দলকে উইকেট এনে দেন তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারের বলে জাকের আলী অনিকের মুঠোবন্দী হয়ে আউট হন ডাচ ওপেনার ম্যাক্স ওদাউদ। নিজের প্রথম বলেই উইকেটের দেখা পান তাসকিন।
এরপর ডাচদের দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নেন তাসকিনই। এবার তার শিকার হন আরেক ওপেনার বিক্রমজিত সিং। পারভেজ হোসেন ইমনের মুঠোবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদেই দ্রুত ২ উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ।
এরপর দশম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন সাইফ হাসান। প্রথমে স্কট এডওয়ার্ডসকে আউট করার পর একই ওভারে তেজা নিদামানুরুকেও সাজঘরের পথ দেখান সাইফ। চতুর্থ বলে উইকেট নেওয়ার পর পঞ্চম বলে ওয়াইড করা সাইফ শেষ বলে পান নিজের দ্বিতীয় উইকেট।
প্রথম ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারানো সফরকারীরা এরপর আর খুব বেশি এগোতে পারেনি। লাইন-লেন্থ বজায় রেখে ইনিংসের বাকি ওভারগুলোতেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন টাইগার বোলাররা। নিজের প্রথম ২ ওভারে ২ উইকেট নেওয়া তাসকিন এরপর বাকি ২ ওভারে নিয়েছেন আরও ২ উইকেট। এছাড়া একটি উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। সব মিলিয়ে টাইগারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রানের সংগ্রহ গড়তে পারে ডাচরা। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৪ উইকেট পেয়েছেন তাসকিন।
এবার নিয়ে টি–টোয়েন্টিতে তৃতীয়বার ৪ উইকেট পেলেন তাসকিন। এর আগে ২০২২ সালে হোবার্টে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে (৪/২৫) ও ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে (৪/১৬) ৪ উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম