বার্সেলোনার সভাপতি পদ থেকে হোয়ান লাপোর্তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ক্লাবটিতে নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী আবারও সভাপতি পদে লড়তে যাচ্ছেন লাপোর্তা, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবা হচ্ছে ভিক্টর ফন্টকে। বার্সেলোনার ভবিষ্যতের রোডম্যাপ নির্ধারণী এই নির্বাচনে অবধারিতভাবেই আলোচনায় চলে এসেছেন ক্লাবের দুই কিংবদন্তি—জাভি হার্নান্দেজ ও লিওনেল মেসি।
বার্সেলোনার ইতিহাসের সঙ্গে যার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেই লিওনেল মেসিকে ঘিরেই ছিচঋত সব জল্পনা-কল্পনা। ক্লাবের ১৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সারা বিশ্বের নজর ছিল ন্যু ক্যাম্পের দিকে—সবাই ভাবছিলেন, প্রিয় ক্লাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে হয়তো আবারও ব্যালট হাতে দেখা যাবে ‘এলএমটেন’কে। তবে সমর্থকদের হতাশ করে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন না আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
তবে জাভি সরাসরি ভিক্টর ফন্টের পক্ষ নিলেও, ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি এখন পর্যন্ত নিজেকে পুরো প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখেছেন। বর্তমান সভাপতি লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক খুব একটা সুখকর নয়, আবার ফন্টকে সমর্থন করার মতো যথেষ্ট কারণও তার রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইন্টার মায়ামি তারকা নীরবতা ভাঙছেন না।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারিও স্পোর্ত’-এর প্রতিবেদন, বার্সাইউনিভার্সালডটকমসহ ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা এবং বর্তমানে বার্সেলোনার ক্লাব কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় মেসি এবার ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দিয়ারিও স্পোর্ত বলছে, মেসি কোনো প্রার্থীর সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে দেখা করবেন না। এমনকি ভিক্টর ফন্ট প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, জয়ী হলে তিনি সবার আগে মেসিকে ফোন করবেন; কিন্তু মেসি তার এই আহবানেও আপাতত সাড়া দিচ্ছেন না।
প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক এখন প্রায় বিচ্ছিন্ন। এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে মেসিকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে বা ভোট দিতে দেখা গেলেও, এবার তিনি ভোটদান থেকেও বিরত থাকবেন বলে জানা গেছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে মেসি সশরীরে ন্যু ক্যাম্পে এসে ভোট দিয়েছিলেন। সে সময় তার ভোট দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিলো, যা নির্বাচনে হুয়ান লাপোর্তার জয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছিলো বলে ধারণা করা হয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
ইন্টার মায়ামির হয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মেসি। ক্লাবের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির ব্যস্ততার কারণে হুট করে বার্সেলোনায় উড়ে আসা তার জন্য কঠিন।
মেসির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে নতুন কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।
ক্লাবের বর্তমান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে মেসির দূরত্ব নিয়ে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিলো। স্প্যানিশ সাংবাদিক জেরার্ড রোমেরোর মতে, মেসি বর্তমানে নিজের ক্যারিয়ার এবং পরিবার নিয়েই বেশি মনোযোগী।
বার্সার এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, মেসি বার্সেলোনার আজীবন সদস্য (সোসিও), ভোট দেওয়া তার অধিকার। কিন্তু তিনি না আসার অর্থ এই নয় যে ক্লাবের প্রতি তার ভালোবাসা কমে গেছে। তিনি দূর থেকেই ক্লাবের মঙ্গল কামনা করছেন।
২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমানোর পর থেকে ক্লাবের সঙ্গে মেসির সম্পর্কের টানাপোড়েন মাঝেমধ্যেই সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। তবে বার্সা ভক্তদের আশা ছিলো, ক্লাবের ক্রান্তিলগ্নে হয়তো আবারও পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা যাবে তাদের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কে। সেই আশা আপাতত পূরণ হচ্ছে না।
তবে দিয়ারিও স্পোর্ত বলছে, এখনই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিয়েছে, মেসি হয়তো আগামী নির্বাচনে বড়ো কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেন। সেটি হতে পারে কোনো প্রার্থীর প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানো, এমনকি নিজেও প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। তবে এবারের মতো তিনি কেবল ‘দর্শক’ হয়েই থাকতে পছন্দ করছেন।
বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ কার হাতে যাচ্ছে, তা জানতে এখন আগামী ১৫ মার্চের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

