পাহাড়ঘেরা গ্রাম। আঁকাবাঁকা দুর্গম পথ। কোথাও আবার মাঝখানে বয়ে চলেছে নদী। এই পথ পেরিয়েই প্রতিদিন স্কুলে যেতে হতো চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ুননান প্রদেশের অনেক শিশুকে। এখন সেই কঠিন যাত্রার সঙ্গী হয়েছে ‘ওয়াটার স্কুল বাস’।
সকাল হলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে বান্দা গ্রামের ফেরিঘাট। ছোট্ট ব্যাগ কাঁধে শিশুরা একে একে হাজির হয় নদীর তীরে। কারও সঙ্গে থাকে বাবা-মা, কারও হাত ধরে থাকেন দাদি-নানি। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে নৌকায় চেপে শুরু হয় স্কুলের পথে যাত্রা।
এ দৃশ্য এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পাহাড়ি এসব শিক্ষার্থীর স্কুলযাত্রা ছিল বেশ কঠিন।
চীনের ইয়ুননান প্রদেশের ওয়েনশান চুয়াং ও মিয়াও স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের ফুনিং কাউন্টির বো’আই টাউন চারপাশে পাহাড়ঘেরা। দুর্গম সড়ক আর অসংখ্য নদী এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন করে রেখেছে।
কাছাকাছি গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে কখনো পাহাড়ি পথে যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হতো, আবার কখনো ব্যক্তিমালিকানাধীন নৌকায় নদী পার হতে হতো।
নদী পারাপারে নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল বড় উদ্বেগের। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য প্রতিদিনের এই যাত্রা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০২১ সাল থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে ফেরি পরিষেবা চালু করে। শিক্ষার্থীদের স্কুলের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট সময়ে চলতে শুরু করে এসব নৌযান। স্থানীয়দের কাছে এগুলো পরিচিতি পেয়েছে ‘ওয়াটার স্কুল বাস’ হিসেবে।
বর্তমানে বো’আই টাউনের ১২টি ফেরিঘাটে নিয়মিত চলাচল করছে সাতটি ‘ওয়াটার স্কুল বাস’। সকাল ও বিকেলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং বাড়িতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পালন করছে এসব নৌযান।
সড়কের বদলে নদীই যেন এখন শিশুদের স্কুলবাসের পথ। সকালের নরম আলোয় নৌকায় চড়ে নদী পার হয় শিশুরা। কেউ জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আবার কেউ বই খুলে বসে যায়। গন্তব্য একটাই—স্কুল। পাহাড়ের দুর্গম পথের কারণে যে যাত্রা একসময় ছিল দুশ্চিন্তার, এখন সেটিই হয়ে উঠেছে নিয়মিত ও নিরাপদ।
বর্তমানে বো’আই টাউনের ৩২৯ জন শিক্ষার্থী এই বিনামূল্যের ফেরি পরিষেবা ব্যবহার করছে। ২০২১ সালে পরিষেবা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বহন করে ১ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি ট্রিপ সম্পন্ন করেছে ‘ওয়াটার স্কুল বাসগুলো’।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

