শনিবার,

২৭ নভেম্বর ২০২১,

১৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮

শনিবার,

২৭ নভেম্বর ২০২১,

১৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮

Radio Today News

মিসাইল প্রতিযোগিতায় বিশ্ব: সমাধান কোন পথে?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২৬, ২৫ অক্টোবর ২০২১

আপডেট: ১৬:২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২১

মিসাইল প্রতিযোগিতায় বিশ্ব: সমাধান কোন পথে?

প্রতীকী ছবি

পৃথিবীর বহু দেশেই রয়েছে ব্যালিস্টিক মিসাইল। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি দেশের হাতে রয়েছে হারপারসনিক মিসাইল। এ তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স সহ আরো কিছু দেশ। কিন্তু ব্যালিস্টিক মিসাইল এখন সেঁকেলে মিসাইলে পরিণত হয়েছে, তাই শত্রুদের আতঙ্কে রাখতে হাইপারসনিক মিসাইলের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব।
 
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, এমনকি উত্তর কোরিয়া- এই সবগুলো দেশই গত কয়েক মাসের মধ্যে তাদের 'হাইপারসনিক' অর্থাৎ শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুতগতিসম্পন্ন মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে। সবশেষ এরকম একটি হাইপারসনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। আর তাতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত সহ চীনবিরোধী দেশগুলোর কপালে।

চীন হাইপারসনিক মিসাইল পরীক্ষা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলছে না। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসই খবরটি ফাঁস করেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরে দাবি করা হয়, পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ছোড়া হয়েছিল এই মিসাইল। তবে ভূপৃষ্ঠে সেটি লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারেনি। অবশ্য গণমাধ্যমে এমন খবর এলেও চীন দিয়েছে ভিন্ন তথ্য। দেশটি জানিয়েছে, তারা আসলে একটি মহাকাশযানের পরীক্ষা চালিয়েছিল।

কিন্তু চীন কেন এমন লুকোচুরি করছে? বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসাইল পরীক্ষার বিষয়টি নাকচ করার মধ্য দিয়ে চীন আসলে ‘বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। চীন সম্প্রতি যে হাইপারসনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে, সেখানে ‘অরবিটাল বোম্বার্ডমেন্ট সিস্টেম-এফওবি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে রকেটের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথে মিসাইল পাঠানো হয়। পরে সময়মতো সেটি লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে আঘাত হানতে পারে।
 
এফওবি প্রযুক্তির সুবিধা হলো, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে অবস্থানের কারণে মিসাইলটি রাডার এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে। অবশ্য এফওবি প্রযুক্তি একেবারেই নতুন নয়, স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। চীন আবারও সেটি সামনে নিয়ে এলো।

চীন যে এমন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, তা বেশ কয়েক মাস ধরেই জানিয়ে আসছিলেন মার্কিন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাও। তবে প্রশ্ন উঠেছে, কেন চীন এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল? এ নিয়ে বিবিসিকে বিশ্লেষক জেফরি লুইস বলেছেন, বেইজিং আশঙ্কা করছে, আগামী দিনগুলোতে প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক সব পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করবে। তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

মিসাইল প্রযুক্তিতে চীনের অগ্রগতির পেছনে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকেই অনেকটা দায়ী করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমিত করতে ১৯৭২ সালে ‘অ্যান্টি ব্যালিস্টিক মিসাইল’ চুক্তি করা হয়। ২০০২ সালে ওই চুক্তি থেকে সরে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জের ধরে চীন এমন বাড়াবাড়ি করার সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিসাইল প্রযুক্তির দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে চীন। দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান, উত্তর কোরিয়া সহ বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের সাথে দূরত্ব বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোর। এ অবস্থায় যক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করতে চাচ্ছে চীন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সব অস্ত্র চীনকে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রও তার কথিত দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রগুলোর লাগাম টেনে ধরতে চায়। মার্কিন মিত্র ও তার জনগণের কাছ থেকে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রেরও সমরাস্ত্র তৈরির দরকার পড়ছে।

কিন্তু পৃথিবীতে শান্তি ফেরাতে এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা সামলাতে হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রকেই আগ বাড়িয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। তখন হয়তো রাশিয়া ও চীনের দিক থেকেও সাড়া পাওয়া যাবে। অতীতে যেভাবে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা কমানো হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে মিসাইল তৈরির প্রতিযোগিতাও থামাতে হবে।

রেডিওটুডে নিউজ/জেএফ

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের