দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরআইএস ডেনা নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেছে।
পেন্টাগন এখন পর্যন্ত হামলায় ব্যবহৃত সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ করেনি। ওই দিন সকালে প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে একটি টর্পেডো আঘাত হানছে। আঘাতের পর জাহাজটির মূল কাঠামো দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।
শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ৩২ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন ক্রু ছিলেন।
ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের তথ্য মতে, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে শত্রুপক্ষের জাহাজে টর্পেডো নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সে সময় ইউএসএস টর্স্ক থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে জাপানের একটি ৭৫০ টনের জাহাজ ডুবে যায়।
এরপর স্নায়ুযুদ্ধকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মার্কিন সাবমেরিনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা অভিযানে অংশ নিলেও কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে টর্পেডো ব্যবহার করেনি। তবে ১৯৯১ সালের অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গত জুনে ইসফাহানে পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার সময় সাবমেরিন থেকে নিয়মিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল কেইন জানিয়েছেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ডোবাতে মার্ক-৪৮ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। মার্ক-৪৮ টর্পেডো নামের এই টর্পেডোটি ১৯৭২ সালে প্রথম যুক্ত করা হয় এবং সময়ের সঙ্গে এর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড ওজনের এই টর্পেডো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে জাহাজের নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়, ফলে জাহাজটি দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে যায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

