শনিবার,

৩০ আগস্ট ২০২৫,

১৫ ভাদ্র ১৪৩২

শনিবার,

৩০ আগস্ট ২০২৫,

১৫ ভাদ্র ১৪৩২

Radio Today News

রাশিয়ার প্রথম নৌ-ড্রোন হামলা

রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ডুবল ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ৩০ আগস্ট ২০২৫

Google News
রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ডুবল ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ

রাশিয়ার নৌ-ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা জাহাজ ‘সিমফেরোপোল’। বৃহস্পতিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। দানিয়ুব নদীর বদ্বীপ এলাকায় জাহাজটিতে হামলায় এক নাবিক নিহত ও কয়েকজন আহত হন। বেশ কয়েকজন নাবিক এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।

২০১৯ সালে তৈরি হওয়া লাগুনা-ক্লাসের জাহাজটি রাডার, ইলেকট্রনিক ও অপটিক্যাল নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হতো। ২০১৪ সালের পর ইউক্রেনের নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় জাহাজ ছিল এটি। ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটির বেশির ভাগ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্যদের খোঁজে অভিযান চলছে।

এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৃহস্পতিবার রাতে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের স্মরণে গতকাল শুক্রবার শোক দিবস পালন করা হয়েছে শহরটিতে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পাঁচতলা আবাসিক ভবনটিতে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।

রাশিয়ার এ হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক কার্যালয়ের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ভবন। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে ইউরোপ। লন্ডন ও ব্রাসেলসে রুশ রাষ্ট্রদূতদের তলব করা হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করে সরাসরি কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

হামলার পর বিবৃতিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘রাশিয়া কিছুতেই থামবে না, ইউক্রেনকে আতঙ্কিত করাই তাদের লক্ষ্য।’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও হামলাকে ‘শিশু হত্যার মাধ্যমে শান্তি প্রচেষ্টাকে ধ্বংসের কৌশল’ বলে অভিহিত করেন।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় একসঙ্গে ৫৯৮টি ড্রোন ও ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। তাদের দাবি, বেশির ভাগ অস্ত্র প্রতিহত করা হলেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল আঘাত হেনেছে। এতে কিয়েভের অন্তত ২০টি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে আহত হয়েছেন ৩৮ জন। একই রাতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল খারকিভ ও দনিপ্রোপেত্রভস্কেও রুশ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া আলোচনার টেবিল নয়, ক্ষেপণাস্ত্র বেছে নিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, তারা যুদ্ধ থামাতে নয় বরং বাড়াতে চাচ্ছে।’ তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার ওপর নতুন করে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের শক্ত ঘাঁটি পোকরোভস্কের কাছে প্রায় এক লাখ সৈন্যের একটি বাহিনী মোতায়েন করছে। অঞ্চলটি নিজেদের বলে দাবি করে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর এই হামলার ঘটনায় ‘খুশি নন, তবে অবাকও নন’ বলে মন্তব্য করেছেন। 

এদিকে ইউক্রেনকে নতুন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে গতকাল কোপেনহেগেনে বৈঠক করেছেন ইইউ প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। বৈঠকে লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দোভিলে সাকালিয়েনে বলেন, ‘পুতিন সময় কিনে নিয়ে মানুষ হত্যা করছেন।’ এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ইউক্রেনের নিরাপত্তার একমাত্র নিশ্চয়তা হবে ন্যাটোতে যোগ দেওয়া।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্র শিল্পকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলায় নিহতদের পরিবার ও স্বজন এখনও ধ্বংসস্তূপে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে ফিরছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা ভিটালি প্রোৎসিউক জানান, বোমা থেকে বাঁচতে আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরণে তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলো হামলার নিন্দা জানালেও রুশ-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা যে আরও জটিল হয়ে গেছে, তা এখন স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ মন্তব্য করেছেন, ‘পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এখন কার্যত শূন্য।’

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের