
আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার এবং খোস্ত প্রদেশে বাড়িঘর লক্ষ্য করে পাকিস্তান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আফগান কর্মকর্তারা জানান, বুধবার গভীর রাতে এই হামলায় ৩ জন নিহত এবং সাত জন আহত হয়েছে।
এর প্রতিবাদে তালেবান সরকার কাবুলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। আফগান মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী খোস্তের স্পেরা জেলায় হাজী নাঈম খানের বাড়িতে ড্রোন হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তবর্তী নাঙ্গারহারের শিনওয়ার জেলার একজন তালেবান মুখপাত্র জানান, সেখানে শাহসাওয়ার নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার চার ছেলে এবং দুই স্ত্রী আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, কাবুল সন্ত্রাসীদের 'নিরাপদ আশ্রয়' দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কাবুলে চীনা ও আফগান প্রতিপক্ষদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাত্র এক সপ্তাহ পরে এই হামলা হলো। আলোচনায় তিন দেশ সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আফগানিস্তানে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা 'আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানায় ... এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের অনিবার্য পরিণতি হবে।'
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাবুলে বৈঠকের সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত উবাইদ-উর-রেহমান নিজামনিকে একটি প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালে কাবুলে পাকিস্তানের দূতাবাস কম্পাউন্ডে হামলার পর নিজামনি বেঁচে যান। বারবার সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও তিনি ইসলামাবাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম