ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে গণভোট

মঙ্গলবার,

২০ জানুয়ারি ২০২৬,

৬ মাঘ ১৪৩২

মঙ্গলবার,

২০ জানুয়ারি ২০২৬,

৬ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

আলী রীয়াজ

ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে গণভোট

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:১০, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে গণভোট

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং ব্যাপক সংস্কার জরুরি। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা সময়ের দাবি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতেই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ যেন অতীতের মতো না হয়, সে জন্য গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি। গণভোটে বিজয়ের মধ্য দিয়েই জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। সময় এসেছে জনগণের রায়ের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণের। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন হবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে গঠিত হলেও অধিকাংশ সিদ্ধান্ত সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়ে থাকে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে তিনি গণতান্ত্রিক বিকাশের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের গণভোটের প্রচারণায় অংশ নিতে কোনো আইনগত বাধা নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল লক্ষ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা। তিনি গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হবে নাকি স্বৈরাচারী পথে চলবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোট অপরিহার্য।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াসহ অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য দেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের