স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করেই শেখ হাসিনা দানবে পরিণত হন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। শনিবার রংপুরের আরডিআরএস ভবনের বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম বলেন, শেখ হাসিনা কিন্তু ট্যাঙ্কে চড়ে ক্ষমতায় আসেননি; উড়ে এসেও জুড়ে বসেননি। তিনি এসে সংবিধান বাতিলও করে দেননি। যদিও তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন ও পুনর্লিখন করেছেন। আর সেই স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করে তিনি কিন্তু দানবে পরিণত হন। এ স্বৈরাচারী কাঠামো যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদেরও স্বৈরাচারী হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালাতে পারে– উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক বলেন, বর্তমান সরকার কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক নয়; গণঅভ্যুত্থানের সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আইন, আইনি কাঠামো ছিল এবং তাদের দায়িত্ব ছিল তিন মাসের জন্য। কিন্তু এ সরকার এসেছে কতগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে– নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার। সরকার এ সংস্কার করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ এবং তাই তারা এ সংস্কারের পক্ষে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে।
সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে বদিউল আলম বলেন, গণভোটে উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলেও এবং এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলেও আমরা যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবো– তা কিন্তু নয়। কারণ এটা বহুলাংশে নির্ভর করে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। আমরা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রদর্শন না করি; রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না আনি, তাহলে আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে না।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, বাসদের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাবলু ও আইনজীবী মাহে আলম, জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হায়দার স্বাধীন, নারী সংগঠক মঞ্জুশ্রী সাহা প্রমুখ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

