ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলার খাপ্পারপুর গ্রামে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে রাজ্য পুলিশ। মৃতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। তাদের ঘর থেকে একটি রেকর্ড করা ভিডিও বার্তা এবং ঘরের দেয়ালে আগে থেকে একটি লিখে রাখা বার্তাও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্থান টাইমসের।
মৃতরা হলেন, মনিশ কুমার (৩৫), তার স্ত্রী সীমা (বয়স প্রায় ৩২) এবং তাদের তিন সন্তান হানি (৮), প্রিয়াংশি (৫) ও প্রতীক (৩)।
মৃতদেহগুলো দেখে শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, পরিবারটি হয়তো সোমবার রাতে দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পান করে আত্মহত্যা করেছে। মৃতদেহগুলোর পাশে গ্লাসে দুধ পড়ে ছিল।
যদিও পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর ভিন্ন ভিন্ন কারণ বেরিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনিশ বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন। তার স্ত্রী ফাঁসিতে ঝুলে এবং তিন শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
সকাল হওয়ার পরও বাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছেন না দেখে মনিশের প্রতিবেশীরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরে তারা বাড়ির একটি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ আসার আগে মনিশের ভাই একটি জানালা দিয়ে বাড়ির ভেতর উঁকি দিয়েছিলেন। তিনি ভেতরে কাউকে নড়াচড়া করতে না দেখে একটি দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পুরো পরিবারকে পড়ে থাকতে দেখেন।
মথুরার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) শ্লোক কুমার জানান, তাদের বাড়ির একটি কক্ষের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে আত্মহত্যার চিরকুট ও ভিডিওতে কী লেখা হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশ বলছে, মনিশ কুমারের ভাই প্রথম ঘটনাটি পুলিশকে জানান। সকালে শিশুদের খেলতে বের হতে না দেখে তিনি বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন। এরপর দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশ বলেছে, মৃত্যুর আগে মনিশ একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেন, যা এই ঘটনায় রহস্য যোগ করেছে।
ভিডিওতে মনিশ বলেছেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করছি। আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। পুলিশ যেন কাউকে হেনস্তা না করে। আমি খুবই হতাশ এবং এজন্য আমি অনুরোধ করছি, কেউ যেন কাউকে বিপদে না ফেলে।’
ভিডিওতে মনিশ আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি ১২ লাখ রুপিতে একটি জমি বিক্রি করেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, তিনি কোনোভাবে এ জন্য জমির ক্রেতাকে দায়ী করছেন না।
ঘরের ভেতরে দেয়ালে পুলিশ হাতে লেখা একটি নোট পেয়েছে। সেখানে লেখা, ‘আমরা, মনিশ এবং সীমা, স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করছি।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

