থানচির থুইসাপাড়ায় আটকা পড়া পর্যটক উদ্ধার করল বিজিবি

সোমবার,

১৩ জুলাই ২০২৬,

২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সোমবার,

১৩ জুলাই ২০২৬,

২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

থানচির থুইসাপাড়ায় আটকা পড়া পর্যটক উদ্ধার করল বিজিবি

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ১২ জুলাই ২০২৬

Google News
থানচির থুইসাপাড়ায় আটকা পড়া পর্যটক উদ্ধার করল বিজিবি

বান্দরবানের খাড়াই পাহাড়, ভয়ংকর খরস্রোতা নদী, পাথুরে ছড়া এবং গভীর ও দুর্গম বনাঞ্চল পাড়ি দিয়ে থানচির থুইসাপাড়া এলাকায় আটকা পড়া আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসছেন বিজিবির সদস্যরা।

খাড়াই পাহাড়, ভয়ংকর খরস্রোতা নদী, পাথুরে ঝিরি আর গভীর দুর্গম বনাঞ্চল পাড়ি দিয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযানে বান্দরবানের থানচি উপজেলার থুইসাপাড়ায় আটকা পড়া ৪ পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরিচালিত এই উদ্ধার অভিযান স্থানীয়দের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া চার পর্যটক হলেন, ঢাকার সূত্রাপুর থানার বাসিন্দা মো. মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম, তামিম রায়হান সৌরভ এবং শ্যামপুর থানার বাসিন্দা মাহাদি আল মাহবুব। তাদের মধ্যে তামিম রায়হান সৌরভ নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী এবং অন্য তিনজন এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একই সঙ্গে গত ১০ দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস, পাহাড়ধস ও সড়ক বিচ্ছিন্নতার কারণে থানচির নাফাখুম, অমিয়াখুমসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা এবং দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় আটকা পড়া মোট ১২০ জন পর্যটককে উদ্ধার করেছে বিজিবি। এছাড়া ৬ শতাধিক দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবাও প্রদান করেছে বাহিনীটি।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৪ জুলাই অমিয়াখুম ভ্রমণের উদ্দেশ্যে চার পর্যটক থানচির থুইসাপাড়ায় যান। কিন্তু ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং নদীর পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নৌপথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তারা থুইসাপাড়ায় আটকা পড়েন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

বিজিবির সদস্যরা চার পর্যটককে সঙ্গে নিয়ে থুইসাপাড়া থেকে বিকল্প দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে জিন্নাপাড়া, হালিরামপাড়া ও নিকোলাসপাড়া অতিক্রম করে ঝিরি ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে অংসাউপাড়া এলাকায় পৌঁছান। পথে একাধিক পাহাড়ধস, ঝিরিতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত এবং দিনব্যাপী বৃষ্টির কারণে সেদিন সীমান্ত সড়ক পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে অংসাউপাড়ায় বিজিবির তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের নিরাপদে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে অংসাউপাড়া ক্যাম্প থেকে বিজিবির আরেকটি দল অভিযানে যুক্ত হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ ও পাথুরে ঝিরি অতিক্রম করে তারা সীমান্ত সড়কসংলগ্ন নেপিউপাড়া বিওপিতে পৌঁছান। সেখান থেকে বিজিবির গাড়িতে করে ৪ পর্যটককে নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধীন জিন্নাপাড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে থুইসাপাড়ায় পৌঁছে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কারবারিদের সহযোগিতায় থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। পুরো সময়জুড়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিজিবির সদস্যরা চার পর্যটককে সঙ্গে নিয়ে থুইসাপাড়া থেকে বিকল্প দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে জিন্নাপাড়া, হালিরামপাড়া ও নিকোলাসপাড়া অতিক্রম করে ঝিরি ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে অংসাউপাড়ায় পৌঁছান। তবে পথে একাধিক পাহাড়ধস, ঝিরিতে পানির তীব্র স্রোত, পানি বৃদ্ধি এবং সারাদিনের বৃষ্টির কারণে সেদিন সীমান্ত সড়কে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে অংসাউপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের নিরাপদে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা জানান, থুইসাপাড়ায় আটকা পড়ার পর থেকেই বিজিবি তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। পরে জীবনবাজি রেখে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে বিজিবির সদস্যরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিল বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যেকোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থেকে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দিতে বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।’

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বিজিবি ১১৬ জন পর্যটকসহ ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে। এছাড়া দুর্গত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং অন্তত ৪৮ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

টানা বর্ষণে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও বিজিবির ধারাবাহিক উদ্ধার তৎপরতায় আটকা পড়া পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজন ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের