চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-৩০) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির সমগ্র জনগোষ্ঠীকে তাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা (টিসিএম) সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ এই পরিকল্পনাটি অনুমোদন করেছে এবং সম্প্রতি ‘জাতীয় ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ প্রশাসন’ ‘জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন’ যৌথভাবে এটি প্রকাশ করেছে।
২০৩০ সালের মধ্যে চীন প্রধান প্রধান রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় টিসিএম-এর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন, তৃণমূল পর্যায়ে টিসিএম সেবার মানোন্নয়ন এবং মৌলিক টিসিএম গবেষণার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিসিএম শিল্পের সামগ্রিক উদ্ভাবনী সক্ষমতা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টিসিএম-এর প্রভাব আরও বৃদ্ধি করা হবে।
এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি জাতীয় পর্যায়ের টিসিএম চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন এবং হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি রোগ ও সংক্রামক রোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় টিসিএম পদ্ধতির উন্নয়ন ঘটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বড় আকারের টিসিএম হাসপাতালগুলোকে জেরিয়াট্রিকস (বয়স্কদের চিকিৎসা) ও পেডিয়াট্রিকস (শিশু চিকিৎসা) বিভাগ চালু করতে এবং মানসিক পরামর্শ ও ঘুমের সমস্যা বিষয়ক ক্লিনিক স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়া নার্সিং হোম এবং হসপিস কেয়ার বা অন্তিমকালীন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের টিসিএম সেবা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে। সাধারণ চিকিৎসা সেবা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন সেবা, দক্ষ জনবল তৈরি, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী টিসিএম পদ্ধতির প্রসার এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্ষেত্রে কাউন্টি-পর্যায়ের টিসিএম হাসপাতালগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রিটিক্যাল কেয়ার (নিবিড় পরিচর্যা), সংক্রামক রোগ, শিশুদের মায়োপিয়া (স্বল্পদৃষ্টি) ও স্থূলতা, পুনর্বাসন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রসহ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ও সামগ্রিক টিসিএম সেবা উন্নত করার পাশাপাশি টিসিএম ও পশ্চিমা চিকিৎসার সমন্বয় জোরদার এবং এ খাতে আরও বেশি পেশাজীবী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই পরিকল্পনায় উচ্চমানের ক্লিনিক্যাল গবেষণা পরিচালনা, উদ্ভাবনী টিসিএম ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের গবেষণায় সহায়তা, ঐতিহ্যবাহী টিসিএম ফর্মুলা ও ব্যবস্থাপত্র আবিষ্কার ও উন্নয়নের কাজ জোরদার এবং টিসিএম-কেন্দ্রিক আরও গবেষণা প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে টিসিএম-এর ঐতিহ্য রক্ষা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিসিএম-এর বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীর মোট সংখ্যা ১৮২ কোটিতে (১.৮২ বিলিয়ন) পৌঁছেছিল এবং সরকারি টিসিএম হাসপাতালগুলোতে প্রতি ১,০০০ মানুষের জন্য শয্যা সংখ্যা ছিল ০.৮২টি।
চীনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে টিসিএম-এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে, পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে, চীনের বৈদেশিক চিকিৎসা সহায়তা দলে টিসিএম চিকিৎসকদের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে এবং বিদেশে টিসিএম চিকিৎসা দল পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিদেশে উচ্চমানের টিসিএম কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কেন্দ্র এবং সেবা রপ্তানি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে; পাশাপাশি দেশে টিসিএম সেবা গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিও চালু করা হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

