চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা (টিসিএম) এখন ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে মানুষের আস্থা ও আগ্রহ অর্জন করছে। ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা, সুস্থতা ও জীবনধারার অংশ হিসেবে টিসিএমের ব্যবহার বাড়ছে।
জার্মানির বিখ্যাত বাহনহফ-আপোথেকে ফার্মেসি চেইনে গত ছয় বছরের বেশি সময় ধরে চীনের একটি ভেষজ ওষুধ নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বোতল বিক্রি হওয়া পণ্যটি শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যার উপশমে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু ওষুধ নয়, টিসিএমের নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি মৌসুমি ভেষজ চা এখন জার্মানির ফার্মেসি ও চা দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে টিসিএমকে মান ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও)-এর আওতায় টিসিএমের জন্য শতাধিক আন্তর্জাতিক মান প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি, চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
প্রযুক্তির সহায়তায় টিসিএম শিল্পেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক কারখানায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ, কিউআর কোডের মাধ্যমে ওষুধের উৎস ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভেষজ সূত্র বিশ্লেষণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশ ও অঞ্চলে টিসিএম চর্চা করা হচ্ছে এবং ৪০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ খাতে সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি সুস্থ জীবনধারার অংশ হিসেবে টিসিএমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াই এর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

