পারমাণবিক ফিউশন বা নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তিতে অভাবনীয় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীন। দেশটির 'বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক' প্রকল্পের নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় এই খাতের লক্ষ্যমাত্রা এখন অনেকটাই হাতের নাগালে।
শুক্রবার পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশের হেহ্যফেই শহরে শুরু হওয়া 'ফিউশন এনার্জি টেকনোলজি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্স ২০২৬'-এ এই তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তারা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প থেকে খরচের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একে মানুষের তৈরি ফিউশন শক্তির সাহায্যে জ্বালানো "প্রথম বাতি" হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক মূল প্রবন্ধে বলা হয়, পরমাণু শক্তি নিয়ে বিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন সফল হওয়ার ঠিক আগের ধাপে রয়েছে। এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে বিশেষ এক ধরনের জ্বালানি (ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম) পুড়িয়ে শক্তি তৈরির করার জন্য। এটি সফল হলে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে, কারণ প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
সূর্যের শক্তির উৎসকে পৃথিবীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় "‘আদর্শ জ্বালানি উৎস"’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। অধিকাংশ দেশই ২০৪০ সালের মধ্যে তাদের ফিউশন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা ডেমোনেস্ট্রেশন প্রজেক্ট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির নিরিখে চীন এই প্রতিযোগিতার একেবারে এখন শীর্ষে প্রথম সারিতে আছে। অবস্থান করছে।
ফিউশন গবেষণায় চীনের সাফল্য ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। দেশটির 'এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক' এর আগে বারবার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।
সম্মেলনে আরও একটি চমকপ্রদ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হেহফেই শহরের ছাংফেং কাউন্টিতে একটি পূর্ণাঙ্গ "‘ফিউশন সিটি"’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পিত বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন জোনে থাকবে, উন্নত গবেষণা ক্যাম্পাস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, আবাসিক এলাকা এবং সহায়ক অবকাঠামো মূলত বড় মাপের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্র করে এই শহরটি গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে ফিউশন প্রযুক্তির বৈশ্বিক হাব হিসেবে কাজ করবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

